Friday, July 27, 2018

ফ্রিজ কেনার আগে এই ৮টি জিনিস অবশ্যই মাথায় রাখবেন

ফ্রিজ কেনার আগে অবশ্যই মাথায় রাখুন


১) ফোর স্টার বা ফাইভ স্টারের নীচের কোনও মডেল কিনবেন না। এই স্টারগুলি এনার্জি এফিসিয়েন্সি বোঝায়। যত বেশি স্টার, তত বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। তাই প্রয়োজন হলে আর একটু বেশি টাকা জমান। দু’দিন পরে ফ্রিজ কিনুন কিন্তু ওয়ান স্টার বা টু স্টার ফ্রিজ কিনবেন না। এতে প্রতি মাসেই অনেক টাকা বিদ্যুতের বিল দিতে হবে।

২) একেবারে অনামী ব্র্যান্ডের ফ্রিজ কখনও কিনবেন না। হোয়ার্লপুল, এলজি, স্যামসাং হল বাজারসেরা। এগুলিই এখন রেফ্রিজেটরের সবচেয়ে ভাল ব্র্যান্ড। এর বাইরে হিতাচিও ঠিকঠাক। কিন্তু এর সবচেয়ে ভাল মডেলগুলির সবক’টিই ৩০০ লিটার বা তার বেশি।

৩) ফ্রিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল তার কম্প্রেসর। এটি যত উন্নতমানের হবে ততই তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হবে ফ্রিজ। অত্যাধুনিক ইনভার্টার কম্প্রেসর রয়েছে এমন মডেলের ফ্রিজ কেনাই ভাল। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় এবং ভোল্টেজের ওঠানামাতেও ঠিকঠাক কুলিং হয়। এলজি-র স্মার্ট ইনভার্টার কম্প্রেসর ফ্রিজে কতটা জিনিস রয়েছে সেটা সেন্স করে সেই অনুযায়ী নিজেই কুলিং সেট করে নেয়। এতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হয় না। আবার স্যামসাংয়ের ডিজিটাল ইনভার্টার কম্প্রেসর নিজেই বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ এবং ফ্রিজ ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী কুলিং অ্যাডজাস্ট করে।

৪) ঠান্ডা জল ছাড়া যাঁদের চলে না তাঁরা হোয়ার্লপুলের কয়েকটি মডেল দেখতে পারেন যেখানে একটি আলাদা ডোর-কুলিং ইউনিট থাকে। জলের বোতল খুব তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়।

৫) ডাবল ডোর ফ্রিজ কেনাই ভাল। এতে স্টোরেজ স্পেস অনেকটা বেশি পাওয়া যায়। ব্যস্ত পরিবারে যেখানে সবাইকেই রোজ বেরতে হয় তাদের পক্ষে এই ফ্রিজই ভাল কারণ মাছ-মাংস ইত্যাদি অনেকটা একসঙ্গে স্টোর করা যায়।

৬) ফ্রিজের ভিতরের স্টোরেজ স্পেসটি মোটামুটি সব ভাল ব্র্যান্ডই উনিশ-বিশ ডিজাইন করে। যেটা দেখা দরকার তা হল শেলফ যথেষ্ট শক্তপোক্ত কি না। গ্রিল শেলফ অনেকটা ভারী ওজন বইতে পারে আবার ফ্ল্যাট ফাইবার শেলফ দেখতে ভাল এবং পরিষ্কার করা সহজ। যেটা সুবিধে সেটাই নেবেন।

৭) এখন নতুন মডেলগুলিকে স্লিক করার জন্য মেটালিক শিট দিয়ে জালের মতো স্ট্যাটিক কনডেন্সারটি ঢেকে দেওয়া হয়। সব মডেলে না পেলেও অনেক ভাল মডেলেই এটা পাবেন। এতে ফ্রিজটি কম জায়গা জুড়ে থাকে আর দেখতেও উৎকট লাগে কম।

৮) যদি অনেক টাকা খরচ করে চোখ ধাঁধানো ফ্রিজ কেনার ইচ্ছে থাকে তবে সাইড-বাই-সাইড ফ্রিজার রয়েছে এমন মডেল বাছুন। এগুলিতে ওয়াটার ডিসপেন্সারও পাবেন। অর্থাৎ ঠান্ডা জল খাওয়ার জন্য আর বোতল হাতড়াতে হবে না। ফ্রিজের গায়ের ডিসপেন্সারটি অন করলেই ঠান্ডা জল পাবেন।

নতুন মোটরসাইকেল কেনার আগে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখা দরকার

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং বেশীরভাগ মানুষই মিডলক্লাস ফ্যামিলির । সো , বেশীরভাগ মানুষের অফিসে বা তার কর্মক্ষেত্রে যাওয়া আস বা অন্যান্য কাজের জন্য একটা বাইকের প্রয়োজন সবসময়ই আশা করে । যদি কারও অলরেডি একটা বাইক থেকে থাকে , তাহলে তার প্রবণতা থাকে আরেকটি নতুন বাইক টেস্ট করার । আর বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এখানে সেখানে ভ্রমণ বা যাওয়া আসা করা জন্য বাইকই সর্বশ্রেষ্ট মাধ্যম ।

তো , বাইক সবসময়ই একটা মূল্যবান সম্পদ এবং অনেকের ক্ষেত্রে স্ট্যাটাসের ও একটা ব্যাপার হয়ে থাকে । তো , সাধারণত বাংলাদেশে যারা নিয়মিত ইউজের জন্য বাইক কেনে , তারা সর্বনিন্ম ৩ বছর এবং সবোর্চ্চ ১০ বা তারও বেশী বছর ধরে ইউজ করে । তাই , একটা মোটরসাইকেল কেনার আগে আমাদের সবসময়ই সতর্ক থাকতে হবে । আপনাকে অবশ্যই সবদিক বিবেচনা করে সতর্কতার সাথে বাইক চয়েজ করতে হবে। আপনার কোনটা দরকার,বা কোনটা না হলেও চলে , বা কেমন পারফরমেন্স দরকার , কেমন মাইলেজ দরকার এসব অনেক দিকে নজর রাখতে হয় বাইক কেনা আগে।
তো , নির্দিষ্ট কিছূ নিয়ম কানুন অনুসরণ করে আপনি একটা আপনার জন্য পারফেক্ট ও ভাল বাইক কিনতে পারবেন । বাইক কেনাটাই এখানে অনেক বড় একটা ফ্যাক্ট বাংলাদেশের মিডলক্লাস ফ্যামিলির ক্ষেত্রে । সো , একটা বাইক কিনে যদি কেউ তার মনের আশা পূরণ করতে না পারে বা বাইকটির পারফরমেন্স তার মন বা আশা মত না হয় , তখন বিষয়টা আসলেই খারাপ হয় । তো , যে বিষয়গুঅে মাথায় রাখলে আপনি আপনার জন্য পারফেক্ট একটা বাইক কিনতে পারবেন সেগুলো নিচে তুলে ধরা হল :
আপনার বাজেট নির্ধারণ :
একটা বাইক কোর ক্ষেত্রে সর্বপ্রথমে আপনাকে আপনার বাজেট ঠিক করতে হবে । কারণ বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বাজেট অনেক বড় একটা জিনিস । আপনার বাজেটই বলে দেবে আপনার জন্য কেমন টাইপের বা কোন ব্রান্ডের হতে পারে । যেমন হতে পারে আপনার বাজেট হল ১২০০০০ থেকে ১৬০০০০ এ ভেতর । সো আপনাকে তখন খুজে বের করতে হবে এই বাজেটের ভেতর সবথেকে ভাল কোন বাইকগুলো রয়েছে বা কোন ব্রান্ডের কেমন বাইক রয়েছে । ফলে বাইক কেনার ক্ষেত্র্রে আপনার মেইন এবং প্রথম কাজ হল আপনার বাজেট নির্ধারণ করা ।



যে বাইক গুলো আপনি চান না সেগুলো বাদ দিন :
বাজেট নির্ধারণের পর আপনার কাজ হবে আপনি যে বাইকগুলো চান না সেগুলো বাদ দেওয়া । মানে , নিশ্চই আপনার বাজেটের ভেতর অনেকগুলো বাইক ই পড়বে । এর মধ্যে আপনি হয়ত চান না যে আপনার বাইকটাতে কোন নিদিষ্ট ফিচার না থাকুক । সেই বাইকগুলো বেছে বেছে বাদ দিন । বা হতে পারে কোন বাইকের কালার , বা লুক আপনার ভাল লাগেনি , বা কোনটার পারফরমেন্স ভাল লাগেনি । সেই বাইক গুলো বাদ দিন আপনার তালিকা থেকে । যেমন , ধরুণ আপনার বাজেট ২৫০০০০ এবং আপনি একটা রেসিং বাইক চাইবেন এবং ভাল কোয়ালিটির একটা চাইবেন । দেখা গেল আপনার বাজেটের ভেতর যে বাইকগুলো আছে তাদের ৩ টি বাদে কেউই ৪ সেকেন্ডের ভেতর ৬০ কি.মি/ঘন্টা স্পীড তুলতে পারে না । কিন্তু সেটা আপনার একটা চাহিদা যে আপনার বাইকটি ৪ সেকেন্ডের ভেতর ৬০ স্পিড তুলতে পারবে । সো , আপনার তালিকাকে সংক্ষিপ্ত করে ৩-৪ টি বাইকে নিয়ে আসুন।



শোরুমে গিয়ে একটা টেষ্ট ড্রাইভ দিন :
আপনার তালিকায় যে ৩-৪ টি বাইক রয়েছে সেগুলোর উপর একটা টেস্ট ড্রাইভ চালান । যদি বাইকগুলো আপনার বন্ধু বা রিলেটিভের ভেতর কারও না থাকে তাহলে সোরুমে চলে যান । কারণ , বাইক জিনিসটা একটা চরম ইমোশনের জিনিস । সো , সেটা কেনার আগে অবশ্যই কোন বাইকটি আপনার সাথে সবদিক থেকে প্রাকটিক্যালি যায় সেটা ফিল করে দিখুন । শোরুম এ অথরিটির সাথে বলুন যে আপনি সেখান থেকে ১ টা বাইক ১ সপ্তাহের ভেতর কিনবেই , কিন্তু তার জন্য ওই আপনি ৩-৪ টা বাইকের একটা টেস্ট ড্রাইভ দিতে চান । এভাবে আপনি আপনার জন্য যে বাইকটি সবথেকে বেশী ভাল যায় সেগুলো সিলেক্ট করুন । এবার আপনার তালিকাটা ২ টিতে নিয়ে আসুন।


বন্ধু-বান্ধবের পরামর্শ নিন :
যে বাইকটি কিনতে চাইছেন সম্পর্কে আপনার আসে পাশের লোকজন বা আত্মীয়স্বজনের অভিমত নিন । কেউ না কেউ আপনাকে কোন সদুপদেশ দিতে পারে । হয়ত দেখা যেতে পারে ওই বাইকটি তার আগে ছিল বা ওই বাইক লং টাইম রাইডিং এর এক্সপেরিয়েন্স তার আছে । সো , এই কাজা সেরে ফেলুন ।


মার্কেটে সবথেকে ব্রান্ডের প্রচলিত বাইকগুলোর প্রতি নজর দিন :
মার্কেটে যে ব্রান্ডের বাইকগুলো সবথেকে বেশী সেল হয় আপনার লাস্ট তালিকায় যদি সে ব্রান্ডের কোন বাইক থাকে তাহলে সেটাকে বেশী গুরুত্ব দিন । কারণ , প্রোডাক্ট বেশী বিক্রয় হলে , কোম্পানীর লাভও বেশী হয় এবং তারা ভাল মানের বাইক তৈরী করার সুযোগ পায় । আর , যে বাইকগুলো বেশীরভাগ পাবলিক কিনে সেগুলো স্বাভাবিকভাবেই ভাল হয় । কারণ না হলে বাইক গুলোর ফিডব্যাক যদি খারাপ হত তাহলে এর সেল অনেক কমে যেত।

যেটা আপনি পছন্দ করেন সেটা কিনুন :
আপনার পছন্দের দিকে সবসময়ই বেশী প্রাধান্য দিন । কারণ , বাইকটি আপনার অনেক আদরের একটা জিনিস । সো , বাইকটার সাথে আপনি কসফোর্ট ফিল করেন সেটাই নিয়ে নিন । সামান্য বের্শ দাম বা বেশী মাইলেজের দিকে না তাকিয়ে আপনার পছন্দের দিকেও একটু তাকান । কারণ , এটা একটা মেন্টাল স্যটিফ্যিাকশনের একটা বিষয় । সো , এই বিষয়ে কেয়ারফুল থাকুন । আপনার কেনা বাইক নিয়ে যেন আপনার কোন অনুতাপ না থাকে ।

যদি সম্ভব হয় , তাহলে মোটরসাইকেল কেনার আগে উপরের বিষয়গুলো মাথায় রাখার চেষ্টা করবেন । আর আপনার কাছে যদি কোন টিপস থাকে তবে সেটা শেয়ার করতে পারেন ।


Wednesday, July 25, 2018